মনির খাঁন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার চান্দিনায় এলডিপির অংগ সংগঠন গনতান্দ্রিক যুবদলের সভাপতি শরীফুজ্জামান এখন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক প্রত্যাশী। সম্প্রতি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণের খবর শুনে ওই এলডিপি নেতা নিজেই প্রার্থী হয়েছেন। এতে বিএনপি ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের  মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে দলের দুর্দিনে শরীফুজ্জামান গংরা সরকার দলের নেতাকর্মীদের  সাথে আতাত করে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের ক্ষতি সাধন করেছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। কিন্তু সেই নেতাই এখন যুবদলের আহবায়ক পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
চান্দিনা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের  অভিযোগ এক সময়ের ছাত্রদল নেতা শরীফুজ্জামান দল ছেড়ে এলডিপিতে যোগদান করেন। পরে এলডিপির অঙ্গ সংগঠন গনতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এদলের নেতার নির্দেশে তিনি বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতিকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। চান্দিনায় বিএনপি বিরোধী চক্রের মধ্যে তিনি অন্যতম। সরকার দলের নেতাকর্মীদের সাথে আতাত করে শরীফুজ্জামান গংরা চান্দিনা বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছেন। এ ছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আমৃত্যু প্রয়াত সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো হত্যা মামলার স্বাক্ষী ছিলেন এ এলডিপি নেতা শরীফুজ্জামান। চান্দিনায় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে শক্তিশালী করেছেন প্রয়াত খোরশেদ আলম। বর্তমানে খোরশেদ পুত্র আতিকুল আলম শাওনের নেতৃত্বে দল এখন অনেকটাই শক্তিশালী। সম্প্রতি চান্দিনায় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠনের কার্যক্রম হাতে নেয় কেন্দ্রিয় এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ। এতে হঠাৎ দলের আহবায়ক প্রত্যাশী হিসেবে দৌড়জাপ শুরু করে এলডিপি নেতা শরীফুজ্জামান। তাকে ওই পদে আসীন করতে বিএনপি বিরোধী একটি চক্র এখন উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। এদিকে বিএনপি বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এলডিপি নেতা শরীফুজ্জামান যুবদলের আহবায়ক পদ প্রত্যাশীর খবরে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাকে যুবদলের কোন পদ দিলে দলের অপুরনীয় ক্ষতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ শরীফুজ্জামান গংরা সব সময়ই বিএনপি দ্বংসের পায়তারায় লিপ্ত। তারা দলে প্রবেশ করে ফের নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সদস্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনেও শরীফুজ্জামান গংরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর আলমগীর খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। তাদের কর্মকান্ডই হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলের ক্ষতি সাধন করা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলের আহবায়ক প্রত্যাশী শরীফুজ্জামান বলেন, আমি ছাত্রদলের একজন ত্যাগী নেতা, অনেক আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়ে দলের দুর্দিনে কাজ করেছি, দলের অভ্যন্তরের একটি গ্রুপ আমাকে কোনঠাসা করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা আমার বিরুদ্ধে সরকার দলের সাথে আতাতের অভিযোগ করছে তারাই সরকার দলের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। আসলে তারাই সরকার দলের গুপ্তচর হিসেবে বিএনপিতে অবস্থান করছে।
 এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, শরীফুজ্জামান ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগদান করে ওই দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের সভাপতির পদ লাভ করেন। পরে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনি নির্বাচনেও অংশ গ্রহন করেন। চান্দিনায় বিএনপির নাম মুছে দিতে নানা কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে চক্রটি। কিন্তু দলের ওই সময়ে হাল ধরেন আমার প্রয়াত বাবা খোরশেদ আলম। তিনি তিলে তিলে দলকে সংগঠিত করেছেন। চান্দিনায় বিএনপি এখন সুসংগঠিত। তাই বিরোধী চক্রটি ফের দলে প্রবেশ করে বিএনপির ক্ষতি সাধনের পায়তারা করছে। শরীফুজ্জামানের আহবায়ক প্রত্যাশীর খবর শুনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে এখন চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আপনার মতামত দিন