আবু সাঈদ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা): কালিগঞ্জে পুটিমারি খাল থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকার পুঁটিমাটি খাল থেকে অবৈধভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি বালি উত্তোলন করছে। যার ফলে বাঁধ, ফসলি জমি এবং পাশ্ববর্তী মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন গেলে স্থানীয় মোশাররফ হোসাইন, মনোরঞ্জন, গোলাম হোসেন, শফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুঁটিমারি খাল। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি দিয়ে ফসল ফলানোসহ মৎস্যঘেরের পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সরকারি এই খালের দু’পাশে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। অথচ ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাবুর আলী মোড়লের ছেলে আব্দুর রহিম মোড়ল (৩৫) অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি তুলে জমি ভরাটসহ বিক্রি করছে। বালি উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন স্থানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা।
জনস্বার্থে স্থানীয়রা অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে বারবার অনুরোধ করলেও ইউনিয়নের মেম্বার সিরাজুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে রহিম দেদারছে বালি উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বালি উত্তোলনের ব্যাপারে কিছুই জানি না। আপনাদের যদি জানার দরকার হয় তাহলে সিরাজুল মেম্বারের কাছ থেকে শুনে আসুন।
এ ব্যাপারে মেম্বার সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাল থেকে বালি তুলে রাস্তার দু’পাশে দিচ্ছি যাতে রাস্তা ভেঙে না যায়। বালি উত্তোলন করছি এতে কারও সমস্যা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাস্তার পাশে জমি ভরাট করে দোকান ঘর নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি খাল থেকে বালি উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ তুলে থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আপনার মতামত দিন