আবু সাঈদ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৯ নং মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্পে সীমাহীন অর্থ আত্মসাতের বিষয় উন্মোচন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জমাত আলীর সভাপতিত্বে মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করেছেন। অনেক প্রকল্পের কোন কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকাই আত্মসাত করেন তিনি। ২০১৭ ও ২০১৮ অর্থবছরের বাস্তবায়ন অর্থবছরে এলজিএসপি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়া পিচের রাস্তা মুখ হতে বজলু সরদারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং বাবদ বরাদ্দকৃত এক লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া ২০১৮ ও ২০১৯ অর্থবছরের এলজিএসপি প্রকল্পের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়দেবের বাড়ির সম্মুখ হতে উজায়মারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ ৭৯ হাজার ৮’শ টাকা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পিচের মুখ হতে বজলু সরদারের বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিংয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ টাকা, ৭ নম্বর ওয়াার্ডের অমল সরকারের বাড়ি হতে নিরোধের বাড়ি পর্যন্ত, উজায়মার আশিকের বাড়ি হতে জগন্নাথের বাড়ি পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকার ইট সোলিংয়ের কাজ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুর সরদারের বাড়ি থেকে ফরমান সরদারের বাড়ি পর্যন্ত ভূতনাথ হালদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কোনো কাজ হয়নি। এছাড়াও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজদেবপুরের মহিলা ইউপি সদস্যের বাড়ি পর্যন্ত ১ লক্ষ টাকার কাজ হয়নি। ২০১৮ ও ১৯ অর্থবছরের ৭ নম্বর ওয়াার্ডের উজায়মারি
জয়দেবের বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৮’শ টাকা, একই অর্থবছরের কাজ হলেও ২০১৯-২০ সালে বাস্তবায় হয়নি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজদেবপুর জসীমউদ্দীনের বাড়ি হতে মুজিবর ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার কাজ। নিজদেবপুর মসজিদের সামনে হতে মহিলা ইউপি সদস্যের বাড়ি পর্যন্ত বরাদ্দ ৮ মেট্রিক টন চাউল ও বসন্তপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হতে মঞ্জুর গাজির বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তার কোনো কাজ হয়নি।
এছাড়া ২০১৯-২০ সালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তপুর গ্রামের হবি মোল্লার বাড়ি হতে সাইফুল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের আউট ড্রেন নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা, ১ নম্বর ওয়াার্ডের বসন্তপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৫০ হাজার ১ শ’ টাকা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বজলু সরদারের বাড়ি হতে কোমরের বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিং ৪১ হাজার টাকা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুর রায়ের হাটখোলা হতে প্রশান্ত ঘোষ এর বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তার জন্য ৮২ হাজার টাকা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিব মন্দির সংস্কারের জন্য ৪৫ হাজার টাকা ও সেকেন্দার নগর গ্রামের পিয়ার আলীর বাড়ি হতে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত ইটের রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দকৃত টাকার কোন কাজ হয়নি। বিগত কয়েক বছরে অনেক প্রকল্পের টাকা কাজ না করে উত্তোলন করে আত্মসাত করেন মিজানুর রহমান গাইন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ কবির কাজল ও আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু তালেবসহ আরো অনেকে। মিজানুর রহমান গাইনের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি জানার জন্য মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

আপনার মতামত দিন