ন্যাশনাল ডেস্ক: অগঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি গঠন এবং নতুন কমিটিতে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পদ প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২ টায় কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিলুপ্তকৃত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি ২০২০ সালের ১৫ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকি। এই সময়ের মধ্যে আমি সুনামের সাথে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। কোন প্রকার অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি। অথচ কোন কারণ ছাড়াই আমার কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী নুর আহমেদ রনি ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন হঠাৎ ১০/০৪/২১ সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমাদের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ২১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছেন যা অত্যন্ত দু:খজনক।

তিনি আরও বলেন, নুতন যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ওই কমিটির সভাপতি মনোনিত করা হয়েছে প্রহল্লাদ সরকার রাহুলকে। তিনি বিবাহিত এবং মাদকাসক্ত। প্রতিনিয়ত মাদকের সাথে যুক্ত থাকেন। তিনি কোন দিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি। সম্প্রতি হাতে মদের বোতল রাখা অবস্থায় রাহুলের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি এলাকায় মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার অপকর্মের সাথে জড়িত। তিনি এলাকায় বিভিন্ন মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি ও হয়রানি করে আসছেন যা খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করা হয়েছে মিন্টু রহমানকে। তিনিও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত। মাদক সেবন ও ব্যবসা ছাড়াও তিনি সমাজ বিরোধী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকেন। তিনি কোন দিন রাজনীতি করেছেন বলে মনে হয় না। তারও মাদক সেবনের ছবি রয়েছে যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনিত করা হয়েছে জাহিদ হাসান ইমনকে। তিনিও মাদকাসক্ত। সম্প্রতি মাদক সেবন করে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। সেই সময়ের একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি এলাকার বিভিন্ন ঘেরে মাছ চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এছাড়াও ওই কমিটির প্রতিটি পদে যারা রয়েছে প্রায় সবাই বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পবিত্র সংগঠন যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছে সেই সংগঠনে ঠাই দেওয়া মাদকাসক্ত, বিবাহিত, চোর, বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িতদের পদ না দিয়ে প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নপূর্বক গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এ সময় ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন