এস,কে জাহাঙ্গীর আলম,সাতক্ষীরা :আমি যশোর জেলার র্শাশা থানার যাদবপুর (শান্তিপুর) গ্রামের মুজিবুর রহমান ওরফে মোঃ আব্দুল মুজিদ এর ৬ষ্ঠ কন্যা ও সাতক্ষীরার মুনজিতপুর এলাকার এ কে এম সামছুদ্দিন (কালাম ডাক্তার) এর ছেলে কাজী শাহিদুল হক (কাজী বাচ্চু) এর স্ত্রী মোছাঃ খাদিজা আক্তার চায়না ওরফে মোছাঃ চায়না খাতুন ওরফে চায়না খাতুন ওরফে খাদিজা। ছোটকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত হ্যান্ডবল ও এথলেটিক্স খেলা দেখতাম। সেই খেলা দেখতে দেখতে একটা সময় নিজেই আত্মস্ত করে ফেলেছিলাম। এরপরে পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে নাভারন প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বুজবাগান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম। ভালোই চলছিল স্কুল জীবন। চলতে চলতে একটি সময় স্কুলের আয়োজনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ প্রতিযোগিতায় হ্যান্ডবল ও এথলেটিক্স এ খেলা করার জন্য অংশ্রগ্রহণ করেছিলাম। সেই খেলা দিয়েই আমার খেলাধূলা জীবন শুরু। ঐ খেলার পেছনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন বুজবাগান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা, সহকারী প্রধান শিক্ষক সালাম, গণিত ও ইংরেজি শিক্ষক মনিরুজ্জামান, গেম টিসার রোমা সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এরপরে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ গেমস্ ১৯৯৬ সালে হ্যান্ডবলের ওপর খেলা করার সুযোগ হয়েছিল। যার ক্রমিক নং-২৪৩১ ছিল। পরবর্তীতে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমার।
স্থানীয় পর্যায়ে হ্যান্ডবল খেলতে খেলতে বিভিন্ন সংগঠন থেকে খেলাধূলা করার জন্য ডাক আসে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে যশোর জেলা টিমের প্রতিনিধি হিসেবে গুলিস্থান হ্যান্ডবল ফেডারেশন এর আয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের হ্যান্ডবল খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঐ খেলায় ভালো পারফরমেন্স করায় ২০০২ সালে বাংলাদেশ আনসার টিমে হ্যান্ডবল বিভাগে যোগদান করেছিলাম। পরের বছর ২০০৩ সরাসরি বাংলাদেশে আনসার ব্যাটেলিয়ানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেছিলাম। এবং ২০০৫ সালে যখন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ আনসার টিমের প্রতিনিধি হিসেবে ঐ সদস্যদের মধ্য থেকে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপরে বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে মহিলা ক্রিকেট খেলা পর্যায়ক্রমে শুরু হলে ঐ খেলায়ও অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল আমার। এছাড়াও কলকাতার ইন্দো-বাংলা গেমস্ এ খেলোয়ার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম।
খেলাধূলা জীবনে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত এবং হ্যান্ডবল উপ-পরিষদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ২য় স্কুল হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ ও টুনামেন্ট কর্মসূচী ১৯৯৮ এ ১৫ (পনের) দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর রেখেছিলাম, বাংলাদেশ মহিলী ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ‘‘জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সম্মেলন-২০০০’’ সালে যশোরের খেলোয়ার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এছাড়াও বাংলাদেশ মহিলী ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট সুলতানা কামাল ডড়সবহ স্পোটস্ কমপ্লেক্সে “১ংঃ ডড়সবহ ঋড়ড়ঃনধষষ ঈড়ধপযবং ঞৎধরহরহম ঈড়ঁৎংব-২০১২’’ কোর্সে এ অংশগ্রহণ করেছিলাম, ‘‘ঞযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঙষুসঢ়রপ ঈড়সসরঃবব’’  এর আয়োজনে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালের ১৭ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এ্যালকোহলের ওপর কর্মশালায় অংশগ্রহণ করি। তৎকালীন ১৬তম জাতীয় হ্যান্ডবল চাম্পিয়নশীপ-২০০৩ এর নিয়মিত মহিলা খেলোয়াড, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর সদস্য। যার নং-১৪০১৬৪।  করোনার পূর্বে কলাবাগান ক্লাবের হয়ে মহিলা প্রিমিয়ার লীগে সর্বশেষ খেলেছি। এরপরে আর খেলার সুযোগ হয়নি।
আপনার মতামত দিন